নিচ্ একটি বাস্তুতন্ত্রের ক্রিয়াগত বিশিষ্টতা।
১। অপরিহার্য নিচ্ (Fundamental Niche) - বাসস্থানের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক যে সকল অবস্থা যাতে একটি প্রজাতি কার্যকরীভাবে বেঁচে থাকতে পারে তাকে অপরিহার্য নিচ্ বলা হয়।
২। সক্রিয়
নিচ্ ( Realised Niche)- প্রজাতি যখন প্রকৃতই কার্যকরীভাবে বেঁচে থাকার জন্য সক্রিয়
ভূমিকা পালন করে, তাকে সক্রিয় নিচ্ বলা হয়।
ওডাম তিন
প্রকার নিচ্ এর উল্লেখ করেছেন -
🟢১। বাসস্থান
গত নিচ্ (Habitat Niche) - যে স্থানে প্রজাতি
বাস করে , সেই স্থান সম্বন্ধীয় নিচ্ ।
একটি প্রজাতি
বাস্তুতন্ত্রে ঠিক যতটুকু স্থান নিয়ে থাকে , সেটাই তার Spatial Niche ।বিজ্ঞানী O’
Neill এর একটি উপস্থাপনা দেখায় যে, একটি শটিত কাঠের গুঁড়িতে
সাতটি বিভিন্ন স্থানে সাতটি প্রজাতির মিলিপেড
দের ( কেন্নো) বাসস্থান রয়েছে। এদের প্রত্যেকের মৌল খাদ্যস্তর একই এবং সকলেই পচনশীল জৈব বস্তু ভোগী (Detritivorous)। তবে প্রত্যেকে
তার মাইক্রো হ্যাবিটাট অনুযায়ী কাঠের গুঁড়ির
কেন্দ্র থেকে, জঙ্গলের পচা পাতার নিম্নস্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে অবস্থান করছে। এবং প্রতিটি
গ্রেড এক একটি মাইক্রোহ্যাবিট্যাট যারই অপর নাম নিচ্।
এই সাত প্রজাতির
বিস্তার নিম্নরূপঃ
Euryurus granulatus শটিত কাঠের গুঁড়ির মধ্যে বাস করে।
Pseudopolydesmus serratus শটিত কাঠের গুঁড়ির পৃষ্ঠদেশে বাস করে।
Narceus americanas কাঠের গুঁড়ির বাইরের দিকে বাস করে।
Seytonotus granulatus গুঁড়ির নিম্নাংশে বাস করে।
Fontaria verginiensis গুঁড়িসংলগ্ন মাটিতে।
Cleidogonia caesioannularis মাটিতে পচা পাতার ভিতরে।
Abacion lacterium পচা পাতার নিচের মাটিতে।
🟢২। ট্রফিক নিচ্ (Trophic Niche)-খাদ্যসম্পকীয় অর্থাৎ কার্যকরী নিচ্।
একটি সুন্দর উদাহরণ হল, স্যর চার্লস ডারউইন দ্বারা পর্যবেক্ষিত গ্যালাপাগোস দ্বীপে একই গাছে বিভিন্ন ফিঞ্চ পাখির একত্রে বাস করা। একই বাসস্থান হলেও খাদ্যাভাসের দিক থেকে এরা আলাদা। প্রত্যেকের চঞ্চু পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে কেউ বীজ ভক্ষণ করে, কেউ বা ফলাহারী, কেউ মাংসাশী, কেউ মাটির কাছে থাকে, তো কেউ গাছের ডালে ,সুতরাং নিচ আলাদা হওয়ার জন্য পরস্পর সংঘাত হয়নি।
🟢৩। বহুমাত্রিক নিচ্ (Multidimentional of Hypervolume Niche) - বাসস্থান, খাদ্য ও পরিবেশের অনেক প্রভাবশালী শর্তের ওপর নির্ভরশালী নিচ্ ।
সুতরাং পরিবেশের শর্তগুলির পরিবর্তন হলে তা নিচে্র মধ্যে প্রতিফলিত হয়। উপাদানগুলির পরিবর্তন অনুযায়ী নিচ্-এর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব। ব
ধরা যাক একটি প্রজাতির সদস্যদের বেঁচে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির ওপর পরিবেশের একটি উপাদান যেমন,তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার কী প্রভাব তা একটি লেখচিত্রে দুই অক্ষে স্থাপন করা হল।এটি একটি দ্বিমাত্রিক চিত্র তৈরি করল। এক্ষেত্রে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরস্পর নিরপেক্ষ হতে হবে।
এবার আরও একটি উপাদান যেমন মাটিতে প্রাপ্ত ফসফরাস এর প্রভাবকে অপর একটি অক্ষে রেখে বিবেচনা করলে , একটি ত্রিমাত্রিক গঠন তৈরি হয়।
আসলে, প্রকৃতিতে n সংখ্যক উপাদানের মধ্যে জীব ও জড় উভয়ই থাকে। যা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ত্রিমাত্রিক লেখচিত্রটি প্রজাতির মৌলিক নিচ্কে বোঝায়।
চিত্রঃ প্রথম ছবির দুই অক্ষে যথাক্রমে, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা ,দ্বিতীয়টিতে তৃতীয় অক্ষে রয়েছে মাটিতে প্রাপ্ত ফসফরাস এর প্রভাব ।
🟢পরিবেশিক সাম্যাবস্থা (Ecological Equivalance) -
একই ধরনের পরিবেশে অবস্থিত বাস্তুতন্ত্রগুলির মধ্যে জীবগোষ্ঠীও প্রায় একই প্রকার হয়। এই জীবগোষ্ঠীর পপুলেশনের মধ্যে বহু নিচ্ থাকতে পারে, কিন্তু একই পরিবেশে বাস করবার জন্য নিচগুলিও একপ্রকার হয় এবং দূরসম্পর্কিত পপুলেশনগুলির নিচ্গুলি এক হওয়ায় তাদের অভিযোজিত বৈশিষ্টযও একই প্রকার।
উদাহরণ- বিভিন্ন দেশের মরুভূমিতে বসবাসকারী ক্যাকটাস উদ্ভিদের একই প্রকার অভিযোজন পরিলক্ষিত হয় যদিও তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই৷ একই নিচ্-এ বাস করবার জন্য সম্পর্কহীন প্রজাতির মধ্যে যখন সমরূপ অভিযোজন পরিলক্ষিত হয় তাকে পরিবেশিক সাম্যাবস্থা বলা হয়।
Part 1: https://biomassfootprints.blogspot.com/2025/05/community.html

No comments:
Post a Comment