Saturday, 12 April 2025

POPULATION ECOLOGY Part-1 [Population Density] (বাংলা মাধ্যমের জন্য) [B.Sc. Zoology General ]

 পপুলেশনের সংজ্ঞাঃ 

একটি নির্দিষ্ট বাস্তু তন্ত্রে বসবাস কারী একই প্রজাতি ভুক্ত জীব গোষ্ঠীর  বা খুব নিকট সম্পর্কীয় জীব গোষ্ঠীর মধ্যে জিনের আদান প্রদান ঘতলে,সেই সদস্যদের একত্রে ওই প্রজাতির পপুলেশন বলা হয়।

 পপুলেশনের ঘনত্বঃ

একক অঞ্চলে কতগুলি প্রাণী বাস করে, অথবা কত আয়তনের প্রাণীরা বাস করড়, তাকে পপুলেশনের ঘনত্ব বলা হয়।

যেমন, ১০০ বর্গ কিলো মিটার অঞ্চলে ৫০ টি  হরিণ থাকে। এটি ঐ অঞ্চলের হরিণের ঘনত্ব বোঝায়।

প্রকারভেদঃ

স্বাভাবিক ঘনত্ব (Crude Density): একটি নির্দিষ্ট বড় অঞ্চলের একক সীমানায় থাকা একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির সংখ্যা বা জীবভর।

যেমনঃ ১০ বর্গ কিলোমিটারে ৬ টি খরগোশ থাকে।

বাস্তুবিদ্যার ঘনত্বঃ  একটি নির্দিষ্ট বড় অঞ্চলের সীমানায় প্রকৃতপক্ষে কতগুলি  প্রাণী বাস করতে পারে।

যেমনঃ  কোনো প্রজাতি প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২ টি করে ধরলে ১০ বর্গ কিলোমিটারে ২০ টি থাকা সম্ভব।

কলের পরীক্ষাঃ (Kahl's Experiment)

খুব গরমে বা শীতে যখন বৃষ্টি হয় না তখন পুকুরের জলস্তর অনেক নীচে নেমে যায় কিন্তু সেই পুকুরে থাকা মাছেরা আগে যতটা পরিমাণ জলে বাস করত,সেই পরিমাণ কমে যায়। বাসস্থানের আয়তন কমার অর্থ স্বাভাবিক ঘনত্ব কমে যায় কিন্তু বাস্তুবিদ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় কারণ স্বল্প পরিসরে অনেক মাছ একত্রিত হয়।  যে সকল পাখি শুধুমাত্র মাছ খায় তারা তখন ডিম পাড়ে, কারণ শাবকদের খাদ্যের অভাব ঘটে না যেহেতু স্বল্প স্থানে প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে ,সেই কারনে  পাখিদের ঘনত্ব বাড়ে। 

আবার বর্ষাকালে পুকুরের জলের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পায়। প্রজনন কাজের ফলে মাছেদের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে এবং ফল স্বরূপ ওই পুকুরে মাছেদের স্বাভাবিক ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। কিন্তু জল বেড়ে যাওয়ার কারণে ,বিস্তীর্ণ পরিসরে মাছগুলি ছড়িয়ে থাকে ফলে,বাস্তুবিদ্যার ঘনত্ব হ্রাস পায়।   



স্বাভাবিক বাসস্থানে সামগ্রিক প্রজাতির সংখ্যাই পপুলেশনের ঘনত্ব। 

ঘনত্বের সুত্রঃ D=(n/a) /t

D= ঘনত্ব,n= সদস্য সংখ্যা, a= একক অঞ্চল ,t= সময় একক 

পপুলেশনের ঘনত্বেরও একটি উর্ধ্সীমা আছে। জীব যত ছোটো, একক অঞ্চলে তার সংখ্যাও তত বেশি। যেমন ১০০ একরের একটি জঙ্গালে যত বাঘ থাকতে পারে তার অনেকগুণ বেশী পিঁপড়ে থাকতে পারে। 

প্রাণীর অবস্থান খাদ্যশৃঙ্খলের যত উপরে, একক অঞ্চলে তার ঘনত্বও তত কম। 




জীবগোষ্ঠীর ঘনত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াঃ

সাম্যাবস্থায় থাকলেও প্রকৃতিতে ঘনত্বের বৃদ্ধি নির্দিষ্ট ভাবে হয় না। বিভিন্ন শর্তাবলী সাপেক্ষে জীব গোষ্ঠীর সংখ্যার কখনও বৃদ্ধি ,কখনও হ্রাস হয়।

ঘনত্ব নির্ভরশীল শর্ত :
ঘনত্ব বাড়লে শর্তের তীব্রতা বাড়ে আবার ঘনত্ব কমলে শর্তের তীব্রতা কমে। 

ক।  সংখ্যা বৃদ্ধি, মানসিক চাপ এবং আচার-আচরণঃ

একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট জীব গোষ্ঠীর প্রাণীর সংখ্যার অনেক বৃদ্ধি ঘটলে,তাদের সেখানে যথেষ্ট খাদ্য ও বাসস্থানের অভাব ঘটে। এর ফলে প্রাণীদের ওপর সামাজিক চাপের সৃষ্টি হয়। যা তাদের অস্তঃক্ষরা গ্রন্থির ওপর ক্রিয়া করে। এর ফলে প্রাণীদের বৃদ্ধি এবং আচার আচরণের পরিবর্তন ঘটে যা তাদের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। 

খ। বিস্তারঃ কোনো জীব গোষ্ঠীর পপুলেশনে যদি বাইরে থেকে ঐ প্রজাতির নতুন প্রাণীর আগমন ঘটে তবে ওই পপুলেশনে নতুন জিনের অনুপ্রবেশ ঘটে জননের মাধ্যমে। এর ফলে ওই পপুলেশনে জননের সক্রিয়তা দেখা যায় প্রাণীদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 

গ। প্রাণীদের নিজের দ্বারা নিয়ন্ত্রণঃ যারা দেরি করে অর্থাৎ বেশি বয়সে বিবাহ করে তাদের ক্ষেত্রে অপত্যের সংখ্যা কম হয়। আবার বিভিন্ন জন্ম-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করে মানুষ তাদের সংখ্যার হ্রাস ঘটিয়ে সাম্যবস্থায় রাখার চেষ্টা করে। উপযুক্ত পরিবেশ না পেলে তা জননের সহায়ক নয়।
ঘ। জিনগত কারণঃ পপুলেশনে প্রাণীদের সংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটলে, পপুলেশনের গুণগত মান কমে যায়।ফলে,পরিবেশ অনুকূল থাকলেও প্রাণীর মৃত্যু ঘটে ফলে পপুলেশনে জিনের পরিবর্তন ঘটে। অনেক খারাপ বৈশিষ্ট্য বহনকারী জিনের সংখ্যা পপুলেশনের মধ্যে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ধীরে ধীরে পপুলেশনের সংখ্যার হ্রাস ঘটে। 


ঘনত্ব নির্ভরশীল নয় শর্তঃ
  
এটির প্রকারভেদগুলি হল-_ 

ক। আবহাওয়াঃ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শত্তিশালী শর্ত । পপুলেশনের বৃদ্ধি, বিস্তার,  পরিপক্কতা,জনন ইত্যাদিকে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি তিন ভাগে বিভন্ত-_ 

১। তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতাঃ প্রত্যেক প্রাণীর তাপমাত্রা সহ্য করার একটা নির্দিষ্ট সীমা আছে। এই সীমা বিভিন্ন প্রাণীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন।

  • ইউরিথার্মাল প্রাণীঃ  যেসব প্রাণীর তাপমাত্রা সহ্য করার সীমা অনেক বেশি তাদের ইউরিথার্মাল প্রাণী বলে। 
  • স্টেনোথার্মাল প্রাণীঃ যেসব প্রাণীর তাপমাত্রা সহ্য করার সীমা খুবই কম তাদের স্টেনোথার্মাল প্রাণী বলে। 

২।শীত এবং বরফের প্রভাবঃ ঠান্ডা বা বরফের প্রাবল্যের কারনে পপুলেশনের ঘনত্ব হ্রাস পায়। প্রচুর প্রাণী মারা যায়। প্রাণীদের জনন ক্ষমতাও হ্রাস পায়।

৩। বৃষ্টিপাতঃ গাছের বৃদ্ধি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। যদি কোনো বছর বৃষ্টিপাত না হয় তবে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এর ফলে প্রাণীদের খাদ্যের সংকট ঘটে। এর ফলে প্রাণীদের মধ্যে জনন ক্রিয়ার হ্রাস ঘটে। খাদ্য এবং বাসস্থানের সীমাবদ্ধতা থাকায় প্রাণীরা খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। যদি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায় তবে পপুলেশনের ঘনত্ব কমে যাবে।
৪।রোগঃ বিভিন্ন ধরনের রোগ পপুলেশনের ঘনত্ব হ্রাস করে। পপুলেশনের ঘনত্ব বেশী হলে, এই রোগ মহামারীর আকার ধারণ করে।

৫। খাদক প্রাণীঃ খাদক প্রাণী তাদের খাদ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পপুলেশনে জীবগোষ্ঠীর  সংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। আবার যদি খাদ্য প্রাণীর সংখ্যা কমে যায় তবে খাদক প্রাণীর সংখ্যাও কমতে থাকে। 

৬।মানুষের কাজকর্মঃ মানুষ তার প্রয়োজনে গাছপালা কেটে, প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে,প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করছে। ফলে পশু-পাখির সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। 
যুদ্ধের ফলে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর  জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব পড়ে,ফলে প্রাণীদের সংখ্যার হ্রাস ঘটে। 







No comments:

Post a Comment